রাগ ইমন

রাগ ইমন; সংগীতের একটি রাগ বিশেষ। ইংরেজী বানানে Yaman লেখা থাকায় এই নাম নিয়ে কিছুটা দ্বন্দ্ব থাকা স্বাভাবিক। সংস্কৃত ‘য’ এর উচ্চারণ ‘ইয়’ হয় সেহেতু উচ্চারণ ইয়মন ।  তাহলে বাংলায় হবে ‘যমন’ আর বাংলায় ‘য’ এর উচ্চারণ ‘জ’ এর মত হয় তাহলে হয়ে যাবে ‘যমন(জমন)’। কিন্তু বাংলা ইমন নামেই একটি রাগের নাম দেখা যায়; বিশেষ করে কাজী নজরুল ইসলামের গানের বইয়ে এই রাগের নাম আছে। আরেক জায়গায় কল্যান ঠাটের অন্তর্ভুক্ত একটি রাগের নাম  Iman(ইমন)। রাগ যমন বা ইমন কল্যান ঠাটের অন্তর্ভুক্ত। ঠাট হচ্ছে সংগীতের মুড বা ভাব, মানে কোন রাগ কোন ভাবের সৃষ্টি করে।  সংগীত শাস্ত্রে এই রাগকেই সর্বাধিক প্রাধান্য দেওয়া; এটাই ভিত্তি। কলাকারের দক্ষতা নির্ভর করে কে কত ভালভাবে এই রাগ উপস্থাপন করে যেতে পারে। (রাগ ‘ইমন কল্যান’ নামে আরেকটি রাগ রয়েছে যেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন আরেকটি রাগ।)

এসব রাগের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না। তাই দুইজন সংগীত শিক্ষার্থীর লেখা প্রবন্ধ পাওয়া যায়। এপ্রিল ১৬, ২০০৮ তারিখে হেমা কপিকারের লেখা প্রবন্ধে এই রাগ বিষয়ে অনেক তথ্য পাওয়া যায়। তিনি যখন হিন্দুস্থানী* শাস্ত্রীয় সংগীতের উপর শিক্ষা নিতে যান তখন প্রাথমিক প্রস্তুতির কয়েক মাস পরেই তার গুরুজী ঘোষনা দেন যে তাদের রাগ যমন শেখানো হবে। তিনি খুব উত্তেজিত ছিলেন কারণ এটা ছিল তার শেখা প্রথম রাগ। এই রাগের উতপত্তি স্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায় না। তবে অনেকে বলেন যে এই রাগের উতস পারস্য।

মাইকেল রবিনসন, জুন ২০০৬, লস এঞ্জেলেস থেকে এই রাগ নিয়ে একটি প্রবন্ধ লেখেন। সেখানে সুন্দর কিছু তথ্য ছিল। “Yaman corresponds to the Greek lydian mode, which translates to mean “sweet.” It is fascinating to read Alain Danielou’s various writings about how music, and other aspects of Indian culture greatly influenced ancient Greece. Danielou asserts that many important inventions and concepts attributed to Greece actually originated in the subcontinent.” তার লেখাটি পড়তে পারেনঃ http://www.azuremilesrecords.com/yamannotes.html

রাগ ইমন একটি সম্পূর্ণ রাগ বা সপ্তস্বরী রাগ। এই রাগের সময় হচ্ছে রাতের প্রথম অংশ। বিভিন্ন প্রার্থনা সংগীতে এই রাগের উপস্থিতি দেখা যায়।
আরোহন(ascent): ni re ga ma# pa dha ni sa
অবরোহন(descent): sa ni dha pa ma# ga re sa

null